স্পেনে অনিয়মিত অভিবাসন নীত কি কঠিন হচ্ছে?
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক মানুষের কাছে ইউরোপে কাজ ও স্থায়ী বসবাসের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য স্পেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে অনিয়মিত অভিবাসন, আশ্রয়প্রার্থী এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এতে অনেকের প্রশ্ন—স্পেনে অভিবাসন কি আগের চেয়ে কঠিন হয়ে যাচ্ছে?
বিশ্লেষকদের মতে, এর উত্তর এককথায় ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ নয়। বৈধ পথে দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী বা নির্ধারিত ভিসায় যাওয়ার সুযোগ বহাল থাকলেও অনিয়মিত পথে প্রবেশ এবং আশ্রয় প্রক্রিয়ায় নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আগের তুলনায় আরও কঠোর হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতির বাস্তবায়নও স্পেনের ওপর প্রভাব ফেলছে।
সীমান্তে কড়াকড়ি
সম্প্রতি উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশের ঘটনা ইউরোপজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার পর স্পেন দ্রুত অধিকাংশ অনিয়মিত অভিবাসীকে মরক্কোতে ফেরত পাঠায় এবং সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন অবস্থান নিয়েছে।
ইউরোপজুড়ে কঠোর নীতির প্রভাব
ইইউর নতুন মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট ধাপে ধাপে কার্যকর হচ্ছে। এর লক্ষ্য আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি, বহিঃসীমান্তে কঠোর যাচাই এবং যাদের আশ্রয়ের যোগ্যতা নেই, তাদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদার করা। ফলে শুধু স্পেন নয়, গোটা ইউরোপেই অনিয়মিত অভিবাসনের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
তবে বৈধ অভিবাসনের দরজা বন্ধ নয়
অন্যদিকে স্পেন সরকার ২০২৬ সালে একটি বিশেষ নিয়মিতকরণ (রেগুলারাইজেশন বা বৈধকরণ) কর্মসূচি চালু করেছে, যা শুধুমাত্র আগে থেকেই স্পেনে অবস্থানরত নির্দিষ্ট অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য প্রযোজ্য। এই সুবিধা নতুন করে স্পেনে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য নয়। আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের আগে স্পেনে অবস্থানের প্রমাণ, নিরবচ্ছিন্ন বসবাস এবং অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকার মতো শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কর্মসূচিকে অনেকেই ভুলভাবে "স্পেন অভিবাসনের দরজা খুলে দিয়েছে" বলে প্রচার করলেও বাস্তবে তা নয়। এটি কেবল আগে থেকেই স্পেনে থাকা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ। নতুন অভিবাসীদের জন্য এই নীতির কোনো সুবিধা নেই।
বাংলাদেশিদের জন্য কী বার্তা
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ থেকে যারা স্পেনে যেতে চান, তাদের বৈধ ভিসা, কর্মসংস্থান, শিক্ষার্থী বা পারিবারিক পুনর্মিলনসহ আইনসম্মত পথেই আবেদন করা উচিত। দালালের মাধ্যমে অনিয়মিত পথে স্পেনে যাওয়ার চেষ্টা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সীমান্তে নজরদারি বেড়েছে, ফেরত পাঠানোর ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়ও আরও শক্তিশালী হয়েছে।
সার্বিকভাবে বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন হলো, স্পেনে বৈধ অভিবাসনের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, বরং শ্রমবাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী তা চালু রয়েছে। তবে অনিয়মিত অভিবাসনের পথ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন, ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।