বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ Breaking News
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে

এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · FEATURED

ঢাকা ট্রায়াল রিপোর্ট: 

ন্যাম ভবন থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ব্রিফিংয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের ডিসি ইবনে মিজান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করেছি। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত শেষে বলা যাবে বলে জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান ভবনটির লোকজন। পরে শেরেবাংলা নগর থানায় বিষয়টি জানানো হয়।

খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ডিএমপির তেজগাঁও জোনের ডিসি ঘটনাস্থলে যান। তারা জানালা দিয়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক টিমকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।

ব্রিফিংয়ে ডিসি ইবনে মিজান জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় তারা দুজন ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।’

আলোচনায় ছিলেন গাজী নজরুল

গত ২১ জুলাই এক তরুণীর সঙ্গে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

বহিষ্কার আদেশে দলীয় তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। তিনি জানান, চলতি বছরের ১৭ জুন তাদের বিয়ে হয়েছে।

বহিষ্কারের পর নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে জানায়। তবে দল থেকে বহিষ্কারের কারণে তার এমপি পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় কমিটিতেও বিতর্ক হয় এবং একটি কমিটি থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, বহিষ্কারের পরও ‘খাতা-কলমে’ তিনি জামায়াতের সদস্য। তার এই বক্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা হয়।

/এসএ/