বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ Breaking News
ইন্টারনেট গতিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

ইন্টারনেট গতিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

৪ আগস্ট ২০২৬ · FEATURED

মাইনুল হোসেন পিন্নু
ইন্টারনেটের গতি ও ব্যবহারে আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ধীরগতির ও অনির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট ডিজিটাল রূপান্তর, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
রবিবার প্রকাশিত সংস্থাটির *অ্যাটলাস অব গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ২০২৬* প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির স্পিডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্স অনুযায়ী মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে ১০৩ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯১তম। ফিক্সড ব্রডব্যান্ড গতিতে ১৪১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৩তম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গড় গতি ৪৩ মেগাবিট পার সেকেন্ড (এমবিপিএস)। একই নিম্ন-মধ্যম আয়ের অর্থনীতি ভিয়েতনামে এই গতি ১৮৮ এমবিপিএস। ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের গড় গতিতে বাংলাদেশে ৬৬ এমবিপিএস। এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে।

নেটওয়ার্ক থাকলেও অর্ধেক মানুষ অফলাইনে
বিশ্বব্যাংক জানায়, চতুর্থ প্রজন্মের (৪জি) মোবাইল নেটওয়ার্ক পুরো জনগোষ্ঠীর আওতায় থাকলেও ইন্টারনেট ব্যবহারের হার এখনও সীমিত। ২০২৪ সালে দেশের মাত্র ৫৩ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে। অর্থাৎ নেটওয়ার্ক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী অফলাইনে ছিল।

তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বেড়ে ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশে এবং মোবাইল ফোন মালিকানার হার ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশে মোবাইল গ্রাহক ছিল ১৮ কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার।

বিশ্বব্যাংকের মতে, নেটওয়ার্ক কভারেজ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মধ্যে ব্যবধানের অন্যতম কারণ উচ্চমূল্যের স্মার্টফোন, ব্যয়বহুল ডাটা প্যাকেজ ও সীমিত ডিজিটাল সাক্ষরতা। অবকাঠামো থাকলেই ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয় না বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

অর্থনীতিতে প্রভাব
দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণ ও নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধীর ও অনির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা ও কিউআর-কোডভিত্তিক পেমেন্টে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
বিশ্বব্যাংক বলেছে, দুর্বল ইন্টারনেট অবকাঠামো উৎপাদনশীলতা, বিনিয়োগ, রফতানি, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থান সীমিত করতে পারে। একই সঙ্গে ডিজিটাল শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
প্রতিবেদনে গ্রামীণ ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় দুর্বল সংযোগের কারণে কৃষি তথ্য, ডিজিটাল পেমেন্ট ও সরকারি সেবায় প্রবেশ এখনও সীমিত। বিশ্বব্যাপী ২০২৫ সালে নারীদের তুলনায় প্রায় ২৮ কোটি বেশি পুরুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, গত দুই দশকে বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭০ শতাংশের বেশি হয়েছে। তবে শুধু সংযোগ সম্প্রসারণ যথেষ্ট নয়। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী প্রতিযোগিতা, ডিজিটাল দক্ষতা ও সহায়ক প্রতিষ্ঠানও প্রয়োজন।
/এসএ/